অবচেতন মন কি ও অবচেতন মনের শক্তি

অবচেতন মন কি


অবচেতন মন হচ্ছে আমাদের মনের চিন্তা ধারার সেই স্থান যার মাধ্যমে প্রত্যহিক জীবনের অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হয় ‌ । আমাদের প্রতিদিনের কার্যধারার প্রায় 90 শতাংশ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রিত হয় অবচেতন মনের দ্বারা। উদাহরণস্বরূপ শ্বাস নেয়া, ডাইজেশন প্রক্রিয়া, নিউরন তন্ত্র, ব্লাড সার্কুলেশন থেকে শুরু করে আমরা যত ধরনের কাজ নিজে চিন্তা না করে করি সব নিয়ন্ত্রন হয় অবচেতন মন দিয়ে। আশাকরি বুঝতে পেরেছেন অবচেতন মন কি ও অবচেতন মনের শক্তি কতটা। চিন্তা করে দেখুন অবচেতন মন আমাদের সব কাজের 95% এরও বেশি কাজকে নিয়ন্ত্রিত করে তাহলে আমরা যদি অবচেতন মনকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি তবে সহজে অর্জন করা সম্ভব যে কোন কিছু।

অবচেতন মন কিভাবে কাজ করে

মানুষ সচেতন ভাবে যে সমস্ত সিদ্ধান্ত ও পরিকল্পনা তৈরি করে তা মূলত গ্রহণ করে মস্তিষ্কের 2 টি জায়গা। এদের নাম হচ্ছে chatterbox ও higher self , সচেতন মস্তিষ্ক তথ্য সংগ্রহের পর মানুষের সচেতন মন অবচেতন মনকে ঐ তথ্য এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে বলে। অবচেতন মন কিন্তু কোনোরকম ভালো মন্দ বিচার করে না । সে কোন প্রশ্ন ও করেনা সচেতন মন যা আদেশ দেয় সে শুধু সেটা কে কাজে রূপান্তরিত করে। তবে অবচেতন মনের একটা ব্যাপার হলো আমাদের সচেতন মন যদি কোন ব্যাপারে ভুল করে তবে সে ভুল থেকে বের করার দায়িত্ব নেয় অবচেতন মন।

অবচেতন মনের শক্তি


অবচেতন মন কি এবং অবচেতন মন কিভাবে কাজ করে এটা তো জানলেন। এবার জানুন অবচেতন মনের শক্তি কতটা । প্রচন্ড শক্তিশালী মানুষের অবচেতন মন। অবচেতন মন একটা অভ্যাস এর মত কাজ করে। একবার জামান কোন কাজের অভ্যাস হয়ে গেলে ওই কাজটা করতে পরবর্তীতে অনেক সহজ মনে হয়। অবচেতন মন ও ঠিক তেমনি। একবার নিজেকে অনুশাসন করে নির্দিষ্ট কোন লক্ষ্যের দিকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন এবং নিজের চিন্তা শক্তিকে পজেটিভ ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। তবে নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবেন অবচেতন মন কে । আমাদের মস্তিষ্ক সব সময় চারপাশে সিদ্ধান্ত ও সমস্যার সাথে যুদ্ধ করতে থাকে। মস্তিষ্কে যখন নতুন করে পারিপার্শ্বিকতা নিয়ে ভাবতে শুরু করে তখন কিছু বিষয় পরিবর্তিত হতে থাকে। আপনার অবচেতন মনের ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে কিনা এটা জানার বেশ কিছু লক্ষণ রয়েছে এখানে লক্ষণ গুলো তুলে ধরা হলো।

আধ্যাত্মিকতা
আপনার মধ্যে যখন অবচেতন মনের শক্তি জাগ্রত হবে তখন আপনি আধ্যাত্মিকতার অনুভব বুঝতে পারবেন। আপনি প্রার্থনা এবং মোটিভেশন এর প্রতি অধিক মনোযোগী হবেন। আধ্যাত্মিকতা বলতে এখানে আসলে বোঝানো হয়েছে আপনার মানসিকতা এমন হবে যা আপনাকে সব সময় নিজের লক্ষ্যের পথে অবিচল থাকতে মনকে শান্ত রাখতে এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক থাকতে সহায়তা করবে।

ভালো ঘুমের সহায়ক
অবচেতন মনের শক্তি বৃদ্ধির আরও একটা লক্ষণ হচ্ছে ভালো ঘুম হওয়া। মানুষ যখন ঘুমিয়ে থাকে তখন সচেতন মন দ্বারা সে যে সমস্ত শক্তি সংগ্রহ করে তা অবচেতন মন গ্রহণ করে একই সাথে সচেতন মনকে যাবতীয় হতাশা দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলে একটা ভালো ঘুম দেবার জন্য তৈরি করে অবচেতন মন।

আত্মবিশ্বাস
অবচেতন মনের শক্তি বৃদ্ধির সাথে সাথে আপনি আর আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবেন। মানুষের আত্মবিশ্বাস সব সময় বাড়ে কমে তার মনের ভেতর সৃষ্ট বিভিন্ন ভয় থেকে এবং এই সমস্ত ভয় আসে তার মস্তিষ্কে আসা বিভিন্ন তথ্য থেকে ‌। আমাদের অবচেতন মন যখন আরও উচ্চতর চিন্তা ভাবনা দেখে ভালো তথ্য সংগ্রহ করে তখন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *