ক্লাউড কম্পিউটিং কি, ক্লাউড কম্পিউটিং কিভাবে কাজ করে ?

অনেকের প্রশ্ন করেন ক্লাউড কম্পিউটিং কি বা ক্লাউড সার্ভার কি ? এককথায় ক্লাউড কমপিউটিং এর মূল বিষয়বস্তু হচ্ছে নিজের ব্যবহৃত কম্পিউটার হার্ড ড্রাইভ এর পরিবর্তে অন্য কোন ক্লাউড সার্ভার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সার্ভিস বা হার্ডওয়ার ভাড়া নেয়া । এখানে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো ক্লাউড কি এবং ক্লাউড কম্পিউটিং কিভাবে কাজ করে।

ক্লাউড কম্পিউটিং কি

বর্তমান সময়ের সবচেয়ে তে আলোড়ন সৃষ্টিকারী প্রযুক্তি হচ্ছে ক্লাউড কমপিউটিং। ক্লাউড শব্দটি মূলত রূপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন করেন ক্লাউড কি বা ক্লাউড হোস্টিং কি । তাদের বোঝার সুবিধার্থে বলতে হয় আকাশে সর্বত্র যেভাবে মেঘ ছড়িয়ে থাকে। বর্তমান সময়ে ইন্টারনেট ও ঠিক তেমন ভাবেই সর্বত্র জালের মত ছড়িয়ে রয়েছে। ইন্টারনেটে ইমেজ থেকে সর্বনিম্ন খরচে সর্বোচ্চ সুবিধা পাওয়ার উপায় বের করতে গিয়েই জন্ম হয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিং এর । বর্তমানে অধিকাংশ বড় কোম্পানিগুলো নিজেদের হার্ড ড্রাইভ ব্যবহারের পরিবর্তে ইন্টারনেটে সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাছ থেকে হার্ডওয়ার ভাড়া নিয়ে থাকে। সর্বপ্রথম ক্লাউড কম্পিউটিং যাত্রা শুরু করে 2006 সালে।

ক্লাউড সার্ভার কি


ক্লাউড সার্ভার হচ্ছে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কাছ থেকে সার্ভার ভাড়া নেয়া। ক্লাউড সার্ভার বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো কম্পিউটারের ডাটা স্টোরেজ কি তার সুবিধা মত ভাড়া দিয়ে থাকে। ক্লাউড কম্পিউটিং এর ক্লাউড সার্ভার কে মূলত তিনটি বৈশিষ্ট্য ফলো করতে হয়
১, প্রতিষ্ঠানকে ক্রেতার ছোট বা বড় যে কোন স্টোরেজে চাহিদাই মেটাতে হবে।
২, অন ডিমান্ড মানে ক্রেতা যখন চাইবে তখনই তাকে ক্লাউড সার্ভার এর সেবা প্রদান করতে হবে।
৩, ক্লাউড সার্ভার এর তৃতীয় বৈশিষ্ট্য হচ্ছে পে এজ ইউ গো । এটি মূলত পেমেন্ট মডেল। ক্রেতাকে আগে থেকে কোন সার্ভিস রেজাল্ট করতে হবে না। এটা যা ব্যবহার করবে কেবল মাত্র তাঁর জন্যই ক্লাউড সার্ভার প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কে পেমেন্ট দিতে হবে।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সার্ভিস মডেল


ক্লাউড কম্পিউটিং এর প্রধান সার্ভিস মডেল কে তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১, অবকাঠামোগত সেবা বা এনসার ইনফ্রাস্ট্রাকচার এর সার্ভিস IaaS । এ বিষয়বস্তুতে ক্লাউড সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান তাদের সিপিইউ স্টোরেজ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য কম্পিউটার রিসোর্স ব্যবহারকারী প্রতিষ্ঠান কাছে ভাড়া দেয়। ব্যবহারকারীরা তার প্রয়োজনে অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার চালাতে পারে।
২, প্ল্যাটফর্ম ভিত্তিক সেবা বা প্ল্যাটফর্ম এর সার্ভিস PaaS । এই ব্যবস্থায় ক্লাউড সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় অপারেটিং সিস্টেম ওয়েব সার্ভার হার্ডওয়ার ও ডাটাবেজ সহ প্রোগ্রাম এক্সিকিউশন পরিবেশ ইত্যাদি থাকে। অ্যাপ্লিকেশন ডেভলপাররা তাদের তৈরি সফটওয়্যার এই প্লাটফর্মে ভাড়ায় চালাতে পারেন।
৩, সফটওয়্যার সেবা বা সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশন এর সার্ভিস SaaS . এই ব্যবস্থায় ক্লাউড সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন করা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার ব্যবহারকারীগণ ইন্টারনেট এর মাধ্যমে এই সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

ক্লাউড কম্পিউটিং এর সুবিধা


ক্লাউড কম্পিউটিং এর ব্যবহারে সবচেয়ে বড় সুবিধা হচ্ছে ব্যবহারকারী যেকোনো স্থান থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য ডাউনলোড বা আপলোড করতে পারবে।
ব্যবহারকারী নিজস্ব কোন হার্ডওয়ারের দরকার পড়বে না।
তথ্য কিভাবে সংরক্ষিত হবে বা প্রসেস হবে তা জানার প্রয়োজন হয় না
যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে ব্যবহার করা যায়
নিজস্ব হার্ডওয়ার ব্যবহারের থেকে তুলনামূলক অনেক কম খরচ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *