ক্লাউড স্টোরেজ কি? ক্লাউড স্টোরেজ কেন ব্যবহার করবেন?

ডাটা স্টোর করার জন্য বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হচ্ছে ক্লাউড স্টোরেজ। সাধারণভাবে মানুষ কম্পিউটারের হার্ড ড্রাইভ, ফোনের মেমোরি কার্ড অথবা পেনড্রাইভে ডাটা সংরক্ষণ করে থাকেন। অনেকে আবার ডিভিডির মাধ্যমে সংরক্ষণ করে থাকে ডাটা। কিন্তু এগুলোর যেকোন টি যেকোনো সময় নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এক্ষেত্রে অনলাইনে ডাটা স্টোর করা সবচাইতে বেশি নিরাপদ। কারণ ক্লাউড স্টোরেজ গুলোর সিকিউরিটি অনেক বেশি হাই থাকে এবং এগুলো আপনি যেকোন জায়গা থেকে এক্সেস নিতে পারবেন।

অনলাইনে ডাটা স্টোরেজের বিভিন্ন মাধ্যম :
প্রথমে ডাটা স্টোর করার জন্য ফ্লপি ব্যবহৃত হতো এরপর ব্যবহৃত হতো সিডি। সেখান থেকে বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে পেনড্রাইভ বা মেমোরি কার্ড। ক্লাউডে স্টোরেজ করা এগুলোর থেকে অনেক বেশি নিরাপদ । কারণ প্রয়োজনমতো বারবার আপনি ডাটাগুলো যেকোনো জায়গায় বসে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। মনে করুন অফিসের কোন প্রজেক্ট ওয়ার্ক তৈরি করে সেটা তো বাড়িতে ফেলে চলে এসেছেন। সঙ্গে আপনার ইউএসবি নেই কি করবেন ? আপনি সে ক্ষেত্রে তথ্য গুলো ড্রাইভ করা থাকলে খুব সহজে সেখান থেকে প্রজেক্ট কম্পিউটারে ট্রানস্ফার করে নিতে পারবেন এবং সরাসরি আপনার হাতে পেয়ে যাবেন আপনি যেখানেই থাকেন না কেন। আশাকরি ক্লাউড স্টোরেজ কি এবং ক্লাউড স্টোরেজ এর ব্যবহার সম্পর্কে বুঝতে পেরেছেন ‌ । এছাড়া খুব ব্যক্তিগত ফাইল ফেসবুক বা হোয়াটসঅ্যাপে শেয়ার করার মতো নয় এমন জিনিস যেগুলো জমিয়ে রাখতে পারেন খুব সহজে ক্লাউড বা ড্রাইভে এখানে অনলাইনে ডাটা স্টোর করার তিনটি চমৎকার সাইটের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দেয়া হল।

১, গুগোল ড্রাইভ
গুগল ড্রাইভে ডাটা স্টোর করার জন্য সবচাইতে পুরনো একটি মাধ্যম । এটি বেশ কাজের শুধু আপনার একটি জিমেইল একাউন্ট থাকলেই হল । ফোনে তোলা বিভিন্ন ছবি , কন্টাক্ট নাম্বার, ভিডিও, মাইক্রোসফট ওয়ার্ড বা এক্সেল ফাইল যেকোনো কিছু আপলোড করতে পারেন এই গুগল ড্রাইভে। খোদ গুগলের পক্ষ থেকে 15 জিবি ফ্রি স্পেস অনলাইনে দিচ্ছে প্রতিটি জিমেইল আইডির জন্য।গুগল ড্রাইভের আর বড় সুবিধা হচ্ছে আপনি যেকোন ফাইল ফোল্ডার কেবল ব্যক্তিগতভাবে অন্য কাউকে শেয়ার করতে পারবেন । এছাড়া জিমেইল এর মাধ্যমে জানাশোনা লোকদের নিজের সার্কেলে নিয়ে আসা যায় এর মাধ্যমে। তাতে চাইলে অনেকের মধ্যে কোন লিংক শেয়ার করা আর প্রয়োজন হবে না। ইমেইল পাঠানোর সময় খুব বড় ফাইল ইমেইলে এটাচ করা যায় না তাই গুগল ড্রাইভের লিংক দিয়ে দিলে আপনি যাকে ফাইলটি পাঠাতে চাচ্ছেন সে খুব সহজে সেটা ডাউনলোড করে নিতে পারবে। আর মোবাইল ফোনে এন্ড্রয়েড বা আইওএস সব ধরনের প্লাটফর্মে এটি ব্যবহার করা যায়।

২, ড্রপবক্স
ড্রপবক্স কি ? এবং ড্রপবক্স এর ব্যবহার কি ? এগুলো নিয়ে অনেকেই জানতে চান। ড্রপবক্স অনলাইনে ডাটা সংরক্ষণ করার একটি জনপ্রিয় সাইট। যদিও এখানে আপনি গুগোল এর মত কাস্টম শেয়ার করতে পারবেন না কারণ সবটাই পাবলিক’ শেয়ারিং এর কারণ হচ্ছে মানুষ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে লিঙ্ক করে ড্রপবক্স একাউন্ট ব্যবহার করে এরফলে ড্রপবক্সে আপনি যে ফাইল গুলো শেয়ার করছেন । আপনার ফ্রেন্ড লিস্টে থাকা বাকিরাও সেগুলো দেখতে পারবে। স্টোরেজের কথা বলতে গেলে ড্রপবক্স ফ্রী অনলাইন স্টরেস দেয় মোট 2 জিবি কিন্তু চাইলেই 22 জিবির মত জায়গা পেয়ে যেতে পারেন। ফোন ব্যবহার করার জন্য এই সাইট টা খুব ভালো হবে।

৩, আইক্লাউড

আইক্লাউড কি বা আইক্লাউড এর ব্যবহার আইফোন ব্যবহারকারীরা হতো খুব ভালোভাবেই জানেন। যারা আইফোন ব্যবহার করেন তাদের জন্য সবচাইতে ভালো ডাটা স্টোরেজের সাইট হচ্ছে আইক্লাউড। আইফোনে গুগোল ড্রপবক্স ব্যবহার করা গেলেও সিনক্রোনাইজেশনের কারণে ক্লাউড ব্যবহার করা সবচাইতে সহজ । বিশেষ করে যারা ব্যক্তিগত কোন প্রয়োজনীয় ফোল্ডার সংরক্ষন করে রেখে দিতে চান তাদের জন্য এটা হতে পারে বেস্ট অপশন। কারণ এখানে সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার তথ্য প্রকাশ হওয়ার কোন সম্ভাবনাই নেই। এখন প্রশ্ন আসতে পারে আইক্লাউড কতটুকু স্পেস দেয় । বা ক্লাউডের অনলাইন স্পেস কতটুকু। ফ্রি ইউজারদের জন্য আইক্লাউড 5 জিবি স্টোরেজ দেবে এবং পরবর্তীতে চাইলে আপনি এক হাজার গিগাবাইট পর্যন্ত স্টোরেজ সেখানে কিনে নিতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *