লাভজনক শিং মাছ চাষ পদ্ধতি

সঠিক ভাবে চাষ করতে পারলে কার্প জাতীয় মাছ চাষের থেকে শিং মাছ চাষ তুলনামূলক অনেক বেশি লাভজনক। 1 একর জায়গায় থাকে যেখানে কার্প জাতীয় মাছ চাষে বাৎসরিক পাবে ৩ থেকে ৪ লক্ষ টাকা লাভ করা যায়। সেখানে শিং মাছের চাষ করে প্রায় ছয় থেকে সাত লক্ষ টাকা লাভ করা সম্ভব।

শিং মাছের জন্য পুকুর প্রস্তুতি

শিং মাছ চাষের পুকুর অন্য মাছ চাষের পুকুর থেকে অনেকটাই ভিন্ন হয়। শিং মাছের জন্য সবচাইতে উপযুক্ত পুকুর হচ্ছে সারা বছর ৪ থেকে ৫ ফুট পানি ধরে এরকম একটি পুকুর। এছাড়া পুকুরের তলদেশে সম্পূর্ণ সিমেন্ট করা থাকলে সবচেয়ে ভালো হয়। কারন সাধারন মাটির পুকুরে শিং মাছের চাষ করলে মাছগুলো মাটিতে গর্ত করে ভেতরে লুকিয়ে থাকে। যার ফলে ধরা খুব কঠিন হয়ে পড়ে। পুকুর প্রস্তুতির জন্য প্রথমেই পুকুর পাড়ে সবরকম আগাছা পরিষ্কার করে নিতে হবে এবং পুকুরের জলে চুন প্রয়োগ করতে হবে। এরপর পুকুরে শতাংশ প্রতি 500 থেকে 1000 টি করে শিং মাছের পোনা মজুদ করতে পারবেন। এছাড়া পুকুরে কিছু উদ্ভিদ ভোজি মাছ রাখতে হবে তা না হলে উপরের স্তরের সবুজ আবরণ পড়ে গ্যাস সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ভিদ ভোজি মাছ এর মধ্যে প্রতি শতাংশে আট থেকে দশ পিস কাতলা বা সিলভার এবং 2 পিস করে গ্রাস কার্পের পোনা মজুদ করা যেতে পারে। পোনা মজুদের সময় পোনাগুলোকে এন্টি ফাঙ্গাস মেডিসিনে গোসল করিয়ে এর পর পুকুরে ছাড়তে হবে।

পুকুরে শিং মাছের খাবার প্রয়োগ

পোনা মজুদের পর থেকে দৈনিক শিং মাছের পোনা এর 20% অনুপাতে নার্সারি ফিড খাওয়াতে হবে। লাভজনক শিং মাছ চাষ পদ্ধতি এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে সঠিকভাবে মাছের খাবার প্রয়োগ। প্রথম 15 দিন মোট মাছের ওজনের 20% করে খাবার দেয়ার পর থেকে প্রতিদিন মাছের ওজনের 5 পার্সেন্ট হারে পুকুরে খাবার দিয়ে যেতে হবে। শিং মাছের দাম বেশি হওয়ায় দামি খাবার খাওয়ালে ও তেমন কোন সমস্যা হয় না।এদের দ্রুত বৃদ্ধি জন্য পিলেট খাবার খাওয়ানো ই সবচেয়ে ভালো।

শিং মাছ চাষে সর্তকতা

শিং মাছ চাষ করে যেমন লাভ আছে তেমনি এতে প্রচুর ঝুঁকি রয়েছে। নতুন ভাবে যারা শিং মাছ করেন তাদের মধ্যে অধিকাংশই মাছ চাষে ব্যাপক লসের সম্মুখীন হন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় মাছ চাষের অভিজ্ঞতা না থাকায় শিং মাছ ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয় । শিং মাছের ভাইরাস প্রতিরোধের জন্য সব সময় পুকুরে কিছু ওষুধ প্রয়োগ করে যেতে হয়। অবশ্যই শিং মাছ চাষ করলে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সারা বছর ঔষধ প্রয়োগ করে যেতে হবে। অধিকাংশ নতুন খামারিরা মাছ ধরার সময় পুকুরে মাছ খুঁজে পায় না। পুকুরে ছোটখাটো কোন ছিদ্র ভাবের হওয়ার জায়গা থাকলে মাছ চলে যেতে পারে। এছাড়া শিং মাছ চাষের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হচ্ছে সিমেন্টের তৈরি হাউস । কারণ এগুলো থেকে মাছ বের হয়ে যাওয়ার বা গর্তে লুকিয়ে থাকার কোনো সম্ভাবনাই থাকে না।

শিং মাছের উৎপাদন

সবকিছু ঠিক থাকলে প্রতি শতাংশে 15 থেকে 20 কেজি করে শিং মাছ উৎপাদন হয়। এবং প্রতি কেজি শিং মাছের দাম বাজারে 300 টাকা থেকে 500 টাকা পর্যন্ত বেচাকেনা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *