হতাশা থেকে মুক্তির উপায় কি

দুঃখ কষ্ট হতাশা এগুলো মানুষের জীবনের একটি অংশ। কিন্তু সমস্যা সৃষ্টি হয় যখন কোন কষ্ট মানুষ ভুলতে পারে না বা চরম হতাশায় ভোগে। বারবার পুরনো স্মৃতি এবং দুঃখ কষ্ট গুলো ভাবনায় চলে আসে এবং মন কে কষ্ট দেয়। কিন্তু একবার ভেবে দেখেছেন কি এরকমটা কেন বারবার হয় ?
দুঃখ ও হতাশায় ভোগার কারণ আপনার কি ভাবার মতো কিছু আছে মনের মধ্যে ? এখন প্রশ্ন হলো হতাাা থেকে মুক্তির উপায় কি ? পৃথিবীতে চিন্তা করার এত এত বিষয় হাজারো তথ্য বিভিন্ন জানা অজানা জ্ঞান বিজ্ঞান এগুলোর সবটুকুই কি আপনি অর্জন করেছেন। এর মানে হচ্ছে আপনার চিন্তা ভাবনার জগত এবং বিষয়ে অত্যন্ত ছোট এ কারণে আপনি চেষ্টা করেও হতাশা থেকে বের হতে পাচ্ছেন না। মানে এছাড়া আপনার আর কিছু ভাবার নেই।

তাহলে হতাশা থেকে মুক্তির উপায় কি ?
আপনি যখন আপনার মনকে কাজ করার চিন্তা করার জন্য ভালো বিষয় ও তথ্য দেবেন । তখন আপনার মন ও একটি বিষয়ে আটকে থাকবে না। অর্থাৎ নিজেকে কাজের মধ্যে ব্যস্ত রাখাই সবচেয়ে সহজ উপায়। এছাড়া আপনার হয়তো নিজস্ব কিছু ধারনা রয়েছে। যেমন আপনার মনে হতে পারে আপনার মত কষ্ট বা দুঃখ এ জীবনে আর কেউ পায়নি। তাই কেউ হয়তো আপনাকে বুঝবে না। সত্যি বলতে এটি আপনার ভুল ধারণা। বাস্তবে দুঃখ-কষ্টকে তারা অতিক্রম করতে পারে যাদের মন বিভিন্ন বিষয়ে ভরপুর যাদের মধ্যে পড়ার বাজার অভ্যাস নেই পৃথিবীতে কোন বিষয় নিয়ে আগ্রহ নেই তার মনে শুধুমাত্র দুঃখ ছাড়া আর কিছুই নেই তার জন্য হতাশা থেকে মুক্তির উপায় ও নেই। তাই হতাশা থেকে মুক্তির উপায় হচ্ছে নিজের মধ্যে মানে নিজের মনকে সবসময় ভালো তথ্য দিয়ে তার খোরাক জোগানো। হতাশা থেকে মুক্তি পেতে চাইলে আপনার মনকে এমন কিছু দিতে হবে যা নিয়ে সে ব্যস্ত থাকতে পারে এবং এর সাথে ভালো লাগা ও থাকতে হবে। আপনি যখন প্রচুর জ্ঞানের অধিকারী হবেন তখন আপনার কাছে কষ্টকে মানব মনের খুবই ছোট একটা অংশ হিসেবে মনে হবে । যেমন সমুদ্রের সামনে গেলে তার বিশালতা নিয়ে আপনার মন অজান্তেই ভাবনা শুরু করে দেয়। এত পানি এর শেষ কোথায়, এত ঢেউ ,এত বিশাল আকাশ, এই জীবন আসলে কি, এরকম নানা ভাবনা সমুদ্রের বিশালতার কাছে আপনার মনের কষ্ট দুঃখ এগুলো মাথায় আসবে না। ঠিক তেমনি জ্ঞানের বিশালতা ও মানসিক বড় দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে উন্মুক্ত ও বিশাল করে তোলে। আপনার মনের পরিধি যত ছোট থাকবে সারা জীবন ছোটখাটো কষ্ট ও সমস্যার মধ্যেই আপনি আটকে থাকবেন। তাই নিজের চিন্তা ভাবনাকে বড় করে গড়ে তুলুন। মহামানবদের জীবনী ও বই পরুন। এগুলো আপনাকে জীবনকে নতুন ভাবে দেখতে সহায়তা করবে । মানুষ তার চিন্তার সমান বড়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *